প্রকৃত মুসলমানের সামাজিক জীবন খোদাপ্রদত্ত উৎকৃষ্ট নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত - বাংলার মুসলিম

Breaking

বাংলার মুসলিম

আমরা গর্বিত-দেশপ্রেমী-ভারতীয়-বাঙ্গালী মুসলমান

test banner

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, July 21, 2017

প্রকৃত মুসলমানের সামাজিক জীবন খোদাপ্রদত্ত উৎকৃষ্ট নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত


প্রকৃত মুসলমানের সামাজিক জীবন খোদাপ্রদত্ত উৎকৃষ্ট নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত। যার লক্ষ্যই হলো, ব্যক্তি এবং সমাজ উভয়েরই সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধিকে নিশ্চিত করা। শ্রেণী সংগ্রাম, বর্ণাশ্রম প্রথা এবং অর্থনৈতিক ভাবে সমাজের উচ্চ শ্রেণীর দ্বারা নিন্ম শ্রেণীর ওপর আধিপত্য বিস্তার সেখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোরানের কোথাও বা হাদিসের কোথাও শ্রেণী, বংশ এবং সম্পদের দরুন শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারকে অনুমোদন করা হয়নি। বরং এর বিপরীতে কোরানের বহু আয়াত ও মহানবী সঃ এর বহু হাদিস, মানব জাতিকে জীবনের অপরিহার্য বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যে বিষয়গুলো একই সঙ্গে ইসলামের সামাজিক কাঠামোর মূলনীতি রুপেও কাজ করছে। এর মধ্যে প্রধান বিষয় হলো এই যে, মানবজাতি এক ও অভিন্ন পিতামাতা থেকে উদ্ভূত এবং একই চরম লক্ষ্যের দিকে উদ্বুদ্ধ একটি পরিবারের মতো।
মানবজাতির ঐক্যের ধারণা গড়ে উঠেছে আদম ও হাওয়ার অভিন্ন পিতৃ-মাতৃত্বের আলোকে।প্রতিটি মানব সন্তানই প্রথম পিতামাতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্বপরিবারের একজন সদস্য। অতএব অভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগের ব্যাপারে যেমন তার অধিকার আছে, তেমনই আছে দায়িত্ব এবং কর্তব্যও।লোকেরা যখন উপলব্ধি করবে যে, তারা সকলেই একই খোদার সৃষ্টি এবং একই আদি পিতা মাতা আদম ও হাওয়ার সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে সম্পৃক্ত- তখন আর বর্ণবিদ্বেষ, সামাজিক অবিচার, কিংবা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকত্বের কোনো অবকাশ থাকবে না। অভিন্ন পিতৃ-মাতৃত্বের দরুন লোকেরা যেমন প্রকৃতিগত ভাবে ঐক্যবদ্ধ, তেমনি সামাজিক আচরণেও হবে ঐক্যবদ্ধ।কোরান ও হাদিসে প্রকৃতি ও উৎসের দিক থেকে মানবীয় ঐক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটির কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, বর্ণগত অহমিকা ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে নির্মূল করা এবং যথার্থ ভ্রাতৃত্বের পথকে সুগম করে তোলা (কোরান 4:1, 7:189, 49:10-13)
মানবীয় ঐক্যের ধারণা শুধু এর উৎসের মধ্যেই নয়, বরং এর চুড়ান্ত লক্ষ্যের মধ্যেও নিহিত। ইসলামের দৃষ্টিতে মানবতার চুড়ান্ত লক্ষ্য হলো সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য। আমরা সবাই তাঁর কাছে থেকেই এসেছি, তাঁর জন্যই বেঁচে আছি, এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।পবিত্র কোরানের বর্ণনা অনুসারে সৃষ্টির প্রধান লক্ষ্যই হলো খোদার বন্দেগী করা। পৃথিবীতে সত্য ও সুবিচার, ভালোবাসা ও অনুকম্পা, ভ্রাতৃত্ব ও নৈতিকতার প্রতিষ্ঠাও এই উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত (কোরান 51: 56-58)
ইসলামে সামাজিক জীবনের পটভূমি হিসাবে উৎস ও লক্ষ্যের এই একতা ও অভিন্নতার উপরই ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। এখানে ব্যক্তির ভুমিকা হলো সমাজের পরিপূরক। এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ। ব্যক্তি তার সমাজের অভিন্ন কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য দায়বদ্ধ। অন্যদিকে ব্যক্তির অভিন্ন কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য সমষ্টিগত সমাজও সমান ভাবে দায়বদ্ধ। ব্যক্তি যখন সক্ষম তখন সে যথাক্রমে পরিবার, পাড়াপড়শী, আত্মীয় স্বজন, নিজস্ব পরিসরের সমাজ থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের মতো সর্বত্র, তার সামর্থ অনুযায়ী ""আগেরটা আগে-তারপর পরেরটার ভিত্তিতে"" সকলের হক বা অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পূরণে, দায়বদ্ধ ও কর্তব্যপরায়ণ। পক্ষান্তরে, ব্যক্তি যখন দুর্বল অক্ষম মজলুম অসহায়, তখনই সে সমষ্টিগত সমাজের নিকট থেকে সর্বাগ্রে নিরাপত্তা, যত্নশীলতা, সহ আর আর সবকিছু পেতে হকদার। অর্থাৎ পাবার অধিকারী। সুতরাং ,এখানে দায়িত্ব - কর্তব্য এবং হক-অধিকারের মধ্যে যে আদানপ্রদান ঘটে, তা ঘটে চলে সমতুল্য ভাবেই। যেহেতু দায়িত্ব কর্তব্য আর হক অধিকার হলো পারস্পরিক। এই সিস্টেমে কোনো রাষ্ট্র যেমন কোনো ব্যক্তিকে উৎপীড়ন বা তার স্বাধীন সত্তাকে হরণ করতে পারে না, তেমনি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্ঠিও সমাজকে শোষণ এবং রাষ্ট্রকে দুর্নীতিগ্রস্ত করতে হকদার হতে পারে না। পারস্পরিক সম্প্রীতি আর নিরাপত্তার মধ্যেই রয়েছে পুরোপুরি সমতা। সর্বোপরি এখানে ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে রয়েছে একটা গঠনমূলক মিশ্রক্রিয়া।
উৎস ও লক্ষ্যের প্রশ্নে এই মানবীয় ঐক্য এবং এই পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের পাশাপাশি মঙ্গল ও পুণ্যের কাজে সহায়তা, ইসলামের সামাজিক জীবনকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করে তোলে। ব্যক্তির সত্ত্বা এবং জীবন, সম্পত্তি এবং সম্মানের প্রশ্নে তার পবিত্র অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি একে বিশেষত্ব দান করে। সামাজিক, নৈতিক ও চারিত্রিক ক্ষেত্রে ব্যক্তির ফলপ্রসু ভুমিকা পালনেও এর বিশেষত্ব পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
সবথেকে বড় কথা, কোনো ইসলামী সমাজে ব্যক্তি কখনো উদাসীন হতে পারে না। ব্যক্তির সামর্থ্যের মধ্যে তাকে আইনসম্মত ভাবে, নিজে ভালো কাজ করা এবং অন্যকে ভালো কাজের প্রতি আহ্বান করা এবং দুষ্কর্মের প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আদেশ দেয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি প্রথমে পরিবারের মধ্যে তারপর পাড়াপড়শী বা প্রতিবেশীর মধ্যে তারপর আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে তারপর নিজস্ব পরিসরের সামাজিক জন সমষ্টির মধ্যে থেকে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তর পর্যন্ত এই কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করবে, ইসলামের দৃষ্টিতে সেই হলো সফল ব্যক্তি। কিন্তু তা না হয়ে কেউ যদি গোড়ায় গলদ রেখে অর্থাৎ পরিবার-প্রতিবেশি-আত্মীয় স্বজন এবং নিজস্ব পরিসরের মধ্যে থাকা সামাজিক জনসমষ্টির প্রতি সমস্ত দায়িত্ব কর্তব্য ভুলে শুধুমাত্র জাতীয় আর আন্তর্জাতিক সমস্যা উপলক্ষে প্রচার পেতে উদগ্রীব থাকে, তাহলে তার মধ্যে সামান্যতম খোদাভীরুতাও আছে কিনা সন্দেহ হবেই। ( Zakir Hossain Saikh)

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here