সবর কা দুসরা নাম ভারতীয় মুসালমান - বাংলার মুসলিম

Breaking

বাংলার মুসলিম

আমরা গর্বিত-দেশপ্রেমী-ভারতীয়-বাঙ্গালী মুসলমান

test banner

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, June 30, 2017

সবর কা দুসরা নাম ভারতীয় মুসালমান


তাহা আলি খান ঃ
মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট / উচ্চ ন্যায়ালয়,
আপনি কি ভারতীয় মুসলমানদের মতো ধৈর্য্য কারোর দেখেছেন? আপনি কি এদের মতো সংবিধানের উপর আস্থাভাজন কাউকে দেখেছেন? আপনি কি এর মতো সহিষ্ঞু সম্প্রদায় দেখেছেন? আপনি কি এদের মতো ন্যায়ালয়ের উপর আস্থা-বিশ্বাস অটুট রাখার মতো কাউকে দেখেছেন?
যদি আপনার উওর হয় "কেমন করে??" তবে আমার কথা একটু শুনুন--
ইতিহাস বলছে বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার 40 বছর পর সম্রাট বাবরের পৌত্র সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে #গোস্বামী_তুলসী_দাসের লেখা "রাম চরিত মানস" -এর পর আজকের অযোধ্যার সৃষ্টি হয়। যেখানে বাবরি মসজিদের 2 কিলোমিটার অদূরেই একস্থানে মহারাজ দশরথের পুরো রাজভবন বাবরির সামনে নির্মান করা হয়। অযোধ্যার পশ্চিম দিকে রামকোট মন্দির নির্মান করা হয় এবং এটিকেই পূজা করার প্রমূখ্য স্থান হিসাবে নির্বাচন করা হয়। রামকোট মন্দির কেন এতো মাহাত্মপূর্ণ এটা সবাই জানেন, এমন কি অযোধ্যার ছোট-ছোট বাচ্চারাও জানে। কারণ এটাই বিশ্বাস করা হয় যে, এখানেই শ্রী রামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল। রাম তথা সীতার নিজ ভবন যা #কনক_ভবন নামে পরিচিত তার নির্মানও বাবরির চোখের সামনে করা হয়। আবার এই অযোধ্যাতেই #হনুমানগড়ী_মন্দির#রাঘব_জী_মন্দির#সীতা_রাসোই এবং আরোও অন্যান্য ভবন গুলো নির্মান করা হয়, যাতে আজও রাজা দশরথ তার তিনজন রানীর কক্ষ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে যার বর্ননা গোস্বামী তুলসী দাস তার রচিত রামচরিত মানসে করেছেন। যদিও বাবরি মসজিদ উক্ত স্থানগুলি থেকে 2 কিলোমিটার দূরে রয়েছে।
আর বাবরি মসজিদ স্থাপনের পর থেকে 1885 সাল পর্যন্ত অর্থাৎ 350 বছর চুপচাপ শান্তির সঙ্গে অযোধ্যা তার বদলে যেতে থাকা স্বরূপকে দেখতে থাকলো। না কোনোও অন্য ধর্ম সেই স্থানকে নিজেদের ধার্মিক স্থান বলে দাবী করলো, না কেউ তার দিকে আঙ্গুল তুললো। ততোদিন পর্যন্ত আমরা কেবল ভারতীয় নামেই পরিচিত ছিলাম। তখন ভারতে বাবরি মসজিদ মুসলিমদের উপাসনাস্থল ছিল।
1885 সালে শুরু হলো ইংরেজ শাসন। সূত্রপাত হলো বাবরি বিবাদের। আর কিছু সুবিধাজনক কট্টরপন্থী মানুষ খুব চালাকির সঙ্গে শতাব্দী কাল ধরে চলে আসা ভারতের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে হত্যা করার কাজে উঠে-পড়ে লেগে পড়লেন।
1885 সালে "মহন্ত রঘুবীর দাস" ফৈজাবাদ আদালতে একটি মামলা দায়ের করলেন। যাতে বলা হলো- "জন্মস্থান এক চবুতারা", যা মসজিদের সামনে আছে কিন্তু মসজিদ থেকে আলাদা। যার পূর্ব-পশ্চিমে দৈর্ঘ্য 21 ফিট এবং প্রস্থ উওর-দক্ষিণে 17 ফিট। এই "চবুতারার" পূজারী (মহন্ত) একজন হিন্দু, যিনি এর পূজার্চনা করেন। মামলাটিতে আরোও বলা হয়- এই "চবুতারা" চারিদিক থেকে উন্মুক্ত। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় পূজারীকে বহু কষ্ট হয়, তাই এখানে মন্দির তৈরী করার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু সরকার মন্দির নির্মানে বাধা দিয়েছেন, তাই আদালত যদি আদেশ দেন তবে মন্দির নির্মাণ করা যাবে।
সরকারী দপ্তরে লিখিত এবং আদালতে নথিভুক্ত রয়েছে যে, 24 শা ডিসেম্বর, 1885 সালে ফৈজাবাদ আদালতের সাব-জজ পি. হরিকৃষ্ঞণ মহন্ত রঘুবীর দাসের আবেদন খারিজ করে দেন। সাব-জজ তার রায়ে বলেন- "বাবরি মসজিদের সামনে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং খুনো-খুনির বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত করা হবে। রায়ে আরোও উল্লেখ করা হয়- মন্দির-মসজিদের মধ্যে একটা সীমারেখা (প্রাচীর) রয়েছে যা মন্দির-মসজিদকে ভিন্ন অংশ হিসাবে চিহ্নিত করছে। মন্দির-মসজিদের মাঝে প্রাচীর 1857 সালের বহু পূর্বেই নির্মান করা হয়েছিল।"
ফৈজাবাদের সাব-জজ আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর মহন্ত রঘুবীর দাস ফৈজাবাদের জেলা জজ কর্ণেল "জে. আচার্য" -এর নিকট আপিল করেন। উক্ত আপিলের বিচার হওয়ার পর 16 ই মার্চ, 1886 সালে জেলা জজও মহন্ত রঘুবীর দাসের আবেদনটিও খারিজ করে দেন।
জেলা জজ আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর মহন্ত রঘুবীর দাস জুডিশিয়াল কমিশনার যিনি সেইসময়কালে বর্তমান হাইকোর্টের সমান পদাধিকারী ছিলেন তার নিকট আবেদন করলেন। এই আবেদনটিও জুডিশিয়াল কমিশনার 1 লা নভেম্বর, 1886 সালে খারিজ করে দেন।
**(উল্লেখ্য উক্ত কপি গুলো কোর্ট থেকে যে কেউ সংগ্রহ করতে পারেন)
তারপর 1885 থেকে 1949 সাল পর্যন্ত অর্থাৎ 64 বছর ধরে এই বিবাদ না হওয়ার মতোই থাকলো। আর পুরো দেশ একত্রিত হয়ে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করলো। হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রীস্টান সবাই প্রাণ দিলেন আর ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলো।
কিন্তু কে জানতো যে স্বাধীনতার মাত্র দুই বছর পর বাবরি বিবাদের স্ফুলিঙ্গ আবার প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠবে!!! আর সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত 68 বছর ধরে শুরু হলো মুসলিমদের ধৈর্য্যের লম্বা সফর।
#মাননীয় উচ্চ ন্যায়ালয় একটু মনোযোগ দিবেন নিম্নে লিখিত বক্তব্যের উপর। একটু নজর দিবেন নিম্নে লিখিত হিন্দু কট্টরপন্থী ব্যক্তিদের ব্যক্তিদের নামের উপর......
■ 1999 সাল : ভগবান রামের মূর্তি মসজিদের ভিতরে পাওয়া গেল। এটা সবাই জানেন যে, বহুসংখ্যক কট্টরপন্থী হিন্দুরা গিয়ে মসজিদের ভিতর কিভাবে এই মূর্তি স্থাপন করেছিল। মুসলিমরা এর বিরোধীতা করেন এবং দুপক্ষই আদালতের দারস্থ হোন। 23 শা ডিসেম্বর, 1949 সালে নথিভুক্ত হওয়া F.I.R. এ বিস্তারিত বর্ননা #কনেস্টবল মাতা প্রসাদ, থানা-ইন-চার্জ রামদেও দুবেকে দিলেন। যার ভিত্তিতে অযোধ্যা পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ মূখ্যভাবে তিন জনের নামে F.I.R. নথিভুক্ত করেন। (1) অভিরাম দাস (2) রামসকল দাস (3) সুদর্শন দাস, এছাড়াও 50-60 জন অজানা ব্যক্তির নামে দাঙ্গা উসকানো, প্রাচীর টপকে ও সিঁড়ি ভেঙ্গে ধর্মস্থানকে (মসজিদ) অপবিত্র করার মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
এই F.I.R. -এর যে কি হলো সেটা আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারলো না! আপনারাও পড়ুন, দেখুন সেই F.I.R. যা সরকারী দপ্তরে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। মনে রাখবেন এটি স্বতন্ত্র ভারতের সরকারী দপ্তরে, সরকারী আধিকারিক কতৃক নথিভুক্ত হওয়া F.I.R., এটি কোনো মুঘল সম্রাট ওরঙ্গজেবের রাজত্ব কালে জারি হওয়া ফরমান নয় যে আপনি পাগলের প্রলাপ বলে ইতিহাসকে বিকৃত করে দিবেন, যেমন আপনারা করছেন বর্তমানে।
"50-60 জন মানুষের একটি দল বাবরি মসজিদ পরিসরের তালা ভেঙ্গে, দেওয়াল টপকে ও সিঁড়ি ভেঙ্গে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করলো এবং শ্রী ভগবান রামচন্দ্রের মূর্তি মসজিদের ভিতরে স্থাপন করলো। এর সঙ্গে সঙ্গে এরা মসজিদের ভিতরে এবং বাহিরের দেওয়ালে হলুদ ও গেরুয়া রঙে রাম ও সীতার ছবি এবং বিভিন্ন ধরনের নক্সা এঁকে দিল। এরা (মসজিদে অবৈধভাবে প্রবেশাধিকারীরা) মসজিদকে নাপাক (অপবিত্র) করেছে।"
যারপর কোনোও ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উক্ত স্থানকে বিতর্কিত ঘোষণা করে তালা লাগিয়ে দেওয়া হল। আর মুসলিমরা ন্যায় পাওয়ার বুকভরা আশা নিয়ে মহামাণ্য আদালতের শরনাপন্ন হলো।
■1984 সাল : কিছু বহু সংখ্যক কট্টরপন্থী হিন্দু "বিশ্ব হিন্দু পরিষদ" -এর নেতৃত্বে রামজীর জন্মস্থান মুক্ত করার এবং সেই স্থানে রাম মন্দির নির্মানের জন্য একটি সমিতি গঠন করলো। পরে এই অভিযানের নেতৃত্ব ভারতীয় জনতা পার্টির প্রমুখ্য নেতা লাল কৃষ্ঞ আডবানী জী সামলালেন। কিন্তু মুসলিমরা আদালতের উপর বিশ্বাস রাখলেন।
■ 1986 সাল : জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিন্দুদের প্রার্থণা করার জন্য তালা খোলার আদেশ দিলেন। মুসলিমরা এর বিরোধীতা প্রদর্শন করলেন এবং "বাবরি মসজিদ সংঘর্ষ সমিতি" নামের একটি সমিতি গঠন করা হল যা এখনোও আদালতে ন্যায়ের দরজায় আটকে আছে।
■ 1989 সাল : বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাম মন্দির নির্মানের জন্য আন্দোলন জোরদার করলো। তারা বিতর্কিত স্থানের সামনেই রাম মন্দিরের ভীত স্থাপন করা করলো।
মুসলিমরা ধৈর্য্য ধরে আদালতের উপর বিশ্বাস রাখলো।
■ 1990 সাল : বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যকর্তাগণ বাবরি মসজিদের ক্ষতি সাধন করলেন। তৎকালীন প্রধাণ মন্ত্রী #চন্দ্রশেখর জী বার্তা দিয়ে বিবাদের সমঝোতা করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পরের বছর এই প্রয়াসও বিফল হয়ে গেল।
■ 1992 সাল : বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, শিবসেনা এবং ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তাগন বাবরি মসজিদকে ধ্বংস করে দিল।
যার পরিনাম স্বরূপ দেশে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ভড়কে ওঠে, যাতে 2000 এরও বেশী মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
বলুন, কি চলছিল সেইদিন ভারতীয় মুসলিমদের মনের মধ্যে যেদিন পরম সৃষ্টিকর্তার উপাসনার ঘরকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো!
তবুও মুসলিমরা আদালতের উপর বিশ্বাস রাখলো।
■ 2001 সাল : বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তিতে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করলো। বিতর্কিত স্থানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাম মন্দির নির্মাণের সংকল্প পুনরায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করলো।
তখনও মুসলিমরা ধৈর্য্য ধরে আদালতের ন্যায় পাওয়ার আশায় চুপ করে রইলো।
■ জানুয়ারী, 2002 সাল : অযোধ্যা বিবাদ মেটানোর জন্য প্রধাণ মন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী "অযোধ্যা সমিতি" -এর গঠন করলেন। বরিষ্ঠ অধিকারি শত্রুঘ্ন সিংহ কে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা চালানোর জন্য নিযুক্ত করা হল।
মুসলিমরা বললেন- আমাদের দেশের সংবিধান, আইন-কানুন এবং আদালতের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
■ ফেব্রুয়ারী, 2002 : ভারতীয় জনতা পার্টি উওর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা পত্রে রাম মন্দির নির্মানের প্রতিশ্রুতির কথা খারিজ করে দিল। আর 15 ই মার্চ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাদের ঘোষণা পত্রে রাম মন্দির নির্মানের কথা উল্লেখ করলো। কয়েকশো কর্মকর্তা অযোধ্যায় জমায়েত হলেন।
মুসলিমরা তখনও আদালতের উপর আস্থা-বিশ্বাস রাখলেন।
■ 15 ই মার্চ, 2002 : বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং কেন্দ্র সরকারের মধ্যে এই কথা নিয়ে একটা সামঝোতা হল যে- বিহিপ এর নেতা সরকারকে মন্দির পরিসরের বাহিরে চুক্তি প্রদান করবেন। রামজন্মভূমি ন্যাস এর অধ্যক্ষ মহন্ত পরমহংস রামচন্দ্র দাস এবং বিহিপ এর কার্যকারী অধ্যক্ষ অশোক সিংহলের নেতৃত্বে প্রায় 800 কার্যকর্তা সরকারী আধিকারিকের দপ্তরে চুক্তি প্রদান করলেন।
আর 22 শা জুন, 2002 সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ পুনরায় বিতর্কিত জন্মভূমি হস্তান্তরের দাবী জানালো।
তখনও মুসলিমরা আদালতের উপর আস্থা রাখলেন।
■ জানুয়ারী, 2003 : রেডিও তরঙ্গ মারফত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হলো বাবরি মসজিদের তলায় কোনোও প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না।
তখনও মুসলিমরা আদালতে ন্যায়ের আশায় রইলেন।
■ মার্চ, 2003 : কেন্দ্র সরকার বিতর্কিত জমিতে পূজাপাঠ করার অনুমতি চেয়ে আপিল করলেন। সুপ্রিম কোর্ট আবেদন নাকচ করে দেন।
** বলুন কেন্দ্র সরকারের এই
ভূমিকা কতটা সঠিক ছিল??
তখনও মুসলিমরা আদালতের উপরে আস্থা রাখলেন।
■ এপ্রিল, 2003 : ইলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পুরাতাত্ত্বিক সংরক্ষণ বিভাগ বিতর্কিত স্থানে খননের কাজ শুরু করলো। জুন মাস পর্যন্ত খনন কার্য চলার পর রিপোর্ট দেওয়া হলো। যাতে বলা হল- "খনন করে মন্দিরের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে, কিন্তু সেটাকে সার্বজনিক বলা যাবে না।"
তখনও মুসলিমরা ন্যায়ালয়ের প্রতি দৃঢ় আস্থা-বিশ্বাস ধরে রাখলেন।
■ মে, 2003 : CBI, 1992 সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলাতে উপপ্রধাণ মন্ত্রী লালকৃষ্ঞ আডবাণী সহ আট জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলো।
আর মুসলিমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এই আশা নিয়ে ধৈর্য্য ধরে রাখলেন।
■ জুন, 2003 : কাঁচী পিঠের শঙ্করাচার্য জয়েন্দ্র সরস্বতী বাবরি বিবাদের মধ্যস্ততা করলেন। তিনি জুলাই মাসের মধ্যেই উক্ত বিবাদের নিষ্পত্তি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করলেন। কিন্তু কিছুই হলো না। আর হাইকোর্টও লালকৃষ্ঞ আডবানী এর উপর মোকদ্দমা চালানোর অনুমোতি দিলেন না।
তবুও মুসলিমরা আদালতের উপর বিশ্বাস অটুট রাখলেন।
■ আগস্ট, 2003 : বিজেপি নেতা তথা উপপ্রধাণ মন্ত্রী রাম মন্দির নির্মানের জন্য এক বিশেষ বিল আনা হোক বলে বিহিপ এর প্রস্তাবকে বর্জন করলেন।
মুসলমানরা ন্যায়ালয়ের আদেশের অপেক্ষায় রইলেন।
■ এপ্রিল, 2004 : আডবানী জী অযোধ্যার অস্থায়ী রাম মন্দিরে পূজা দিলেল এবং প্রতিশ্রুতি দিলেন রাম মন্দির অবশ্যই নির্মিত হবে।
মুসলিমরা ন্যায়ালয়ের আদেশের অপেক্ষায় রইলেন।
■ জুলাই, 2004 : শিবসেনা প্রমূখ্য বাল ঠাকরে সমস্যা সমাধানের পথ দেখালেন। বাল ঠাকরে বললেন - বিতর্কিত স্থানে "মঙ্গল পান্ডে" -এর একটি মূর্তি স্থাপন করা হোক।
তবুও মুসলিমরা আদালতের উপর অটুট আস্থা রাখলেন।
■ জানুয়ারী, 2005 : 1992 সালের 6 ই ডিসেম্বর বাবরি ধ্বংসের অভিযোগে লালকৃষ্ণ আডবানীকে আদালত তলব করলেন।
মুসলিমরা আদালতের উপর অটুট বিশ্বাস রাখলেন।
■ 6 ই জুলাই, 2005 : এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার সময় 'বিদ্বেষপূর্ণ' এবং 'উস্কানিমূলক' ভাষনের জন্য লাল কৃষ্ঞ আডবানীর নামে অভিযোগ নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। এর প্রথমে উনাকে রেহাই করে দেওয়া হয়েছিল।
তবুও মুসলিমরা আদালতের ওপরে আস্থা রাখলেন।
■ 28 শা জুলাই, 2005 : 1992 সালে বাবরি ধ্বংসের অভিযোগে লালকৃষ্ঞ আডবানী রায়বরেলীর আদালতে উপস্থিত হলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
মুসলিমরা আদালতের উপর অটুট বিশ্বাস রাখলেন।
■ 20 শা এপ্রিল, 2006 : কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UPA সরকার লিব্রাহান আয়োগের সমনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন যে - বাবরি মসজিদ ধ্বংস একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল। আর এই ষড়যন্ত্রে BJP, RSS, বজরঙ দল, শিবসেনার "মিল্লীভগত" যুক্ত ছিল।
কিন্তু তাদের উপর কোনোও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো না।
তবুও মুসলিমরা আদালতের উপর আস্থা রাখলেন।
■ জুলাই, 2006 : সরকার অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানে তৈরী হওয়া অস্থায়ী রাম মন্দিরের সুরক্ষার জন্য বুলেট প্রুফ কাঁচের বেড়া তৈরী করার প্রস্তাব দিলেন। এতে মুসলিমরা বিরোধ প্রদর্শন করেন এবং বলেন এটা আদালত অবমাননা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বির্তকিত স্থানে কিছু করা যাবে না।
তাই ন্যায় বিচারের জন্য মুসলিমরা পুনরায় আদালতের দারস্থ হলেন।
■ 19 শা মার্চ, 2007 : কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রচারে বক্তব্যে বললেন - যদি গান্ধী-নেহেরু পরিবারের কোনো সদস্য প্রধাণ মন্ত্রী হতেন তবে বাবরি মসজিদ ধ্বংস হতো না।
বাবরি নিয়ে রাজনিতী করা হল। তবুও মুসলিমরা আদালতে ভরসা রাখলেন।
■ 30 শা জুন, 2009 : বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তদন্তের জন্য গঠিত লিব্রাহান আয়োগ 17 বছর পর তাদের রিপোর্ট প্রধাণমন্ত্রী মনমোহন সিং কে অর্পন করলেন। 7 ই জুলাই, 2009 উওর প্রদেশ সরকার এক হলফনামায় স্বীকার করলেন অযোধ্যা মামলার সঙ্গে যুক্ত 23 টি অতিগুরুত্বপূর্ণ তথ্যসম্বলিত ফাইল সচিবালয় থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।
তবুও মুসলিমরা আদালতের উপর আস্থা রাখলেন।
■ 24 শা নভেম্বর, 2009 : লিব্রাহান আয়োগ তার রিপোর্ট সংসদের দুটো কক্ষে (রাজ্যসভা ও লোকসভা) পেশ করলেন। যাতে আয়োগ অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মিডিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। আর নরসিংহ সাহেবকে ক্লিন চিট দেওয়া হলো। তবুও মুসলিমরা আদালতের উপর ভরসা রাখলেন।
মুরলী মনোহর জোশী, শিবসেনা নেতা বাল ঠাকরে সহ 21 জনের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করলো। কেননা CBI হাইকোর্টের সেই আদেশের বিপক্ষে রিপোর্ট দিয়েছিলেন যে রায়ে এরা নির্দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
■ 21 শা মার্চ, 2017 : রামজন্মভূমি - বাবরা মসজিদ বিবাদের ন্যায়ের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট মুসলিমদের একমাত্র আশাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন।
আদালত যাকে ন্যায়ালয় বলা হয় তার উপর থাকা বিশ্বাসকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিলেন।
সমস্ত বিশ্বাস, সমস্ত আশাকে নিরাশায় পরিনত করে মামলায় মধ্যস্ততার কথা বললেন!
চিফ জাস্টিস জে. এস. খেহর প্রস্তাব দিলেন- "যদি দুই পক্ষ রাজি থাকেন তবে কোর্টের বাহিরে তিনি মধ্যস্ততা করতে রাজি আছেন।"
মাননীয় উচ্চ ন্যায়ালয়,
আপনিই বলুন, মুসলিমদের ধৈর্য্যর কি কোনো সীমা আছে?
দয়া করে বলুন যদি মধ্যস্ততা করে সামঝোতার বিতর্কের অবসান হতো তবে 64 বছরের এই লম্বা সফর কেন করালেন?
মুসলিমদের বিশ্বাসের এ আবার কেমন পরিনাম দিলেন আপনি??
64 বছর ধরে ধৈর্য্যের মূর্তি হয়ে থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সর্বদা আপনার গরিমার প্রতি বিশ্বাস রাখলো।
আপনিই বলুন "ধৈর্য্যের অপর নাম কি মুসলমান" নয়???
সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সামঝোতা কে করবে, যেখানে মামলা এমন আছে যেখানে দেশের রাজনিতী জিবীত আছে?
কি সংখ্যালঘুদের প্রস্তাব সংখ্যাগুরুরা মেনে নিবেন??
#আপনি নিজে কেন এই বিচার করছেন না??
তবে কি এতো বছর পরে এটাই বিশ্বাস করে নিব যে, আজ পর্যন্ত কোনোও এমন প্রমাণ পাওয়া গেল না যাতে প্রমাণিত করা যাবে বাবরি মসজিদ, রাম মন্দির ভেঙ্গেই তৈরী করা হয়েছিল!!!
মাননীয় আদালত,
ভারতের মুসলমান কালকে যেমন সংবিধানকে সম্মান, শ্রদ্ধা-ভক্তি করতো আজও তেমনই করে। আজও চেষ্টা করে যাচ্ছে যে, আপনার উপর যেন বিশ্বাস অটুট থাকে। আশা করি তাদের ধৈর্য্যের প্রতি লক্ষ্য করে আপনি রায়দান করবেন। ভারতীয় মুসলমান মাননীয় আদালতের রায়কে মাথা পেতে মেনে নিবে, কিন্তু মাঝের রাস্তা বিবাদকে আরোও বাড়িয়ে তুলবে।।
---ধণ্যবাদ

Post Top Ad

Responsive Ads Here